ছাত্র-জনতার উদ্দেশে বার্তা দিলেন জামায়াত-এর আমির

দক্ষিণ বাংলার কন্ঠ icon

দক্ষিণ বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদন

শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যু ও জাতীয় প্রতিক্রিয়া বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সারাদেশে তরুণ […]

শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যু ও জাতীয় প্রতিক্রিয়া

বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সারাদেশে তরুণ ও ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরীফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার পর আবেগ, ক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে উচ্চারিত হয়েছে। তিনি বলেন নিহত জনতার প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক ব্যক্ত করেন এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

জনগণের ক্ষোভকে কাজে লাগানোর বিরুদ্ধে সাবধানবাণী

জামায়াত-এর আমির শফিকুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “স্মৃতিধন্য ওসমান হাদির শাহাদতের পর ছাত্র-জনতার মধ্যে যে ক্ষোভ ও আবেগ সৃষ্টি হয়েছে তা বোধগম্য এবং ন্যায্য। কিন্তু এই ক্ষোভকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অপব্যবহার হলে তা আন্দোলনের মূল লক্ষ্যকে বিপথে নিয়ে যাবে।” তিনি সকল তরুণ ও নাগরিককে দায়িত্বশীল আচরণ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান।

গণমাধ্যম ও আইনের শাসন সম্পর্কে আমিরের মন্তব্য

বার্তায় তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন গণমাধ্যমে হামলা করা মানে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত, যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনটাই গণতান্ত্রিক সমাজে সঠিক পথ।

ছাত্র-জনতাকে সংযম ও ঐক্যের আহ্বান

জামায়াত-এর আমির ছাত্র-জনতা ও দেশের সব নাগরিককে দায়িত্বশীল, সংযমী ও ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জাতীয় ঐক্যই একমাত্র পথ যা দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীল করতে পারে।

আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

শফিকুর রহমান দ্রুত ওসমান হাদির হত্যার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানান। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ের প্রয়োজনে সকল পক্ষের সহযোগিতার অনুরোধ করেন।

সময়ের প্রেক্ষাপট

এই বার্তা আসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহে যেখানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, নৈতিক প্রশ্নাবলী ও প্রশাসনিক সমালোচনা একটি বড় সামাজিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামায়াত-এর এই বক্তব্য তরুণ সমাজের ভূমিকা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে একটি সংযত ও শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করার আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দক্ষিণ বাংলার কন্ঠ icon

দক্ষিণ বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদন

post 17
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আলোচনা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এই তিন দলের পক্ষ থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে উপস্থিত আছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া ওই বৈঠকে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

ছাত্র-জনতার উদ্দেশে বার্তা দিলেন জামায়াত-এর আমির

শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যু ও জাতীয় প্রতিক্রিয়া

বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সারাদেশে তরুণ ও ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরীফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার পর আবেগ, ক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে উচ্চারিত হয়েছে। তিনি বলেন নিহত জনতার প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক ব্যক্ত করেন এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

জনগণের ক্ষোভকে কাজে লাগানোর বিরুদ্ধে সাবধানবাণী

জামায়াত-এর আমির শফিকুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “স্মৃতিধন্য ওসমান হাদির শাহাদতের পর ছাত্র-জনতার মধ্যে যে ক্ষোভ ও আবেগ সৃষ্টি হয়েছে তা বোধগম্য এবং ন্যায্য। কিন্তু এই ক্ষোভকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অপব্যবহার হলে তা আন্দোলনের মূল লক্ষ্যকে বিপথে নিয়ে যাবে।” তিনি সকল তরুণ ও নাগরিককে দায়িত্বশীল আচরণ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান।

গণমাধ্যম ও আইনের শাসন সম্পর্কে আমিরের মন্তব্য

বার্তায় তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন গণমাধ্যমে হামলা করা মানে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত, যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনটাই গণতান্ত্রিক সমাজে সঠিক পথ।

ছাত্র-জনতাকে সংযম ও ঐক্যের আহ্বান

জামায়াত-এর আমির ছাত্র-জনতা ও দেশের সব নাগরিককে দায়িত্বশীল, সংযমী ও ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জাতীয় ঐক্যই একমাত্র পথ যা দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীল করতে পারে।

আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

শফিকুর রহমান দ্রুত ওসমান হাদির হত্যার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানান। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ের প্রয়োজনে সকল পক্ষের সহযোগিতার অনুরোধ করেন।

সময়ের প্রেক্ষাপট

এই বার্তা আসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহে যেখানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, নৈতিক প্রশ্নাবলী ও প্রশাসনিক সমালোচনা একটি বড় সামাজিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামায়াত-এর এই বক্তব্য তরুণ সমাজের ভূমিকা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে একটি সংযত ও শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করার আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন

সংক্ষেপ বিবরণ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ রাতে জাতির উদ্দেশে জরুরি ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও সরকারি জালানিগুলোতে একযোগে সম্প্রচার করা হয়েছে।

ভাষণের সময় ও প্রেক্ষাপট

প্রেস উইং জানিয়েছে যে ভাষণটি বৃহস্পতিবার রাতে সম্প্রচার করা হয়েছে এবং এটি দেশের সাম্প্রতিক ঘটনার—বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু—সংক্রান্ত প্রেক্ষাপটের মধ্যে এসেছে। সরকারি সূত্র এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভাষণের প্রধান বক্তব্য

প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে দেশের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন—এই শোক ও সংকটময় মুহূর্তে সমাজের সমস্ত শ্রেণির মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও ধৈর্য বজায় রাখা আবশ্যক। তিনি অপরাধ ও সন্ত্রাস দমন, আইনের শাসন নিশ্চিত করা ও মানুষের নিরাপত্তা জোরদারের ওপর বিশেষ জোর দেন। স্থানীয় হেডলাইন ব্লগ ও জাতীয় পত্রিকা ভাষণের মূল অনুচ্ছেদগুলো প্রচার করেছে।

সরকারি প্রতিক্রিয়া ও সম্প্রচারণ সংক্রান্ত বিবরণ

  • প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে ভাষণটি রাত সোয়া ১১টার পরে সম্প্রচার করা হয়।
  • বাংলাদেশ টেলিভিশন ও জাতীয় রেডিও একযোগে ভাষণ পরিবেশন করেছে এবং অনেক বেসরকারি চ্যানেলও লাইভ কভার করেছে।

জনমনে প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক পরিবেশ

ভাষণ শোনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও সংবাদপত্রে বিভিন্ন স্তরের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে—কিছু অংশে শান্তি-আহ্বানকে স্বাগত জানানো হচ্ছে, আবার কিছু অংশ উদ্বেগ ও নিরাপত্তা জোরদারের আবেদনও তুলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়াস চলছে; নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে দ্রুত ও সুবিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এবং দেশের নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। আগামী কয়েক দিনে সরকারের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘোষণার প্রতি জনসাধারণ এবং মিডিয়ার বিশেষ নজর রয়েছে।

আপনি যদি আরও বিস্তারিত জানতে চান

ভাষণের পূর্ণ ভিডিও এবং উদ্ধৃত প্যাটাগুলো সরকারি চ্যানেল ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলোর অনলাইন ভার্সনে উপলব্ধ। আধিকারিক বিবৃতি এবং প্রেস উইংয়ের নোটিফিকেশন দেখার পরিপ্রেক্ষিতে এ রিপোর্ট আপডেট করা হবে।


লেখক: বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা

সূত্র: প্রাথমিক রিপোর্টিং—প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪, দৈনিক জাগোনিউজ, বিসিএস/বাসস ও দ্য ডেইলি স্টার।

Scroll to Top